এখন আমি এমন একটি কথা বলতে চাই যা অনেকের কাছে বিতর্কিত মনে হতে পারে। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। তবু আমি নির্দ্বিধায় বলব।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনি যে পাপের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলছেন—আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন—সেই পাপকে আপনার অন্যান্য সৎকর্ম সম্পাদনের পথে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে দিবেন না।
বরং, সেই পাপকেই আপনার অনুপ্রেরণার উৎস করে তুলুন, যেন তা আপনাকে এমন সব নেক আমল করতে বাধ্য করে, যা সাধারণ অবস্থায় আপনি কখনো করতেন না।
আবারও বলছি—আমার কথাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করবেন না। আমি পাপকে বৈধতা দিচ্ছি না। অনেকে আমার কথাকে ভুল বুঝে সমস্যা তৈরি করে। আমি শুধু বলছি — যদি আপনি কোনো আসক্তির গভীরে আটকে পড়ে যান, যেকোনো আসক্তি, যেকোনো অভ্যাসগত পাপ — তাহলে আরও অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার বদলে সেই পাপকেই কাজে লাগান। তাকে আপনার ইবাদতের চালিকাশক্তি বানান—এমনসব ইবাদতের যেগুলো অন্যথায় আপনি কখনো করতেন না।
এমনকি যদি আপনি সেই পাপ ছাড়তে না-ও পারেন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, এমনকি যদি তা পরিত্যাগ করতে না পারেন, আবারও বলছি, আমি বৈধতা দিচ্ছি না, আমাকে ভুল বুঝবেন না—কিন্তু আমি বলছি, ওই পাপ যেন আপনাকে আরও নিচে নামিয়ে দেওয়ার সুযোগ না পায়।
বরং সেই পাপটিকেই নিজেকে এমন সব ভালো কাজে বাধ্য করার হাতিয়ার বানিয়ে নিন, যা অন্যথায় আপনি কখনোই করতেন না। কারণ, আপনি যে অমুক পাপে আসক্ত।
তখন নিজেকে বলুন — ঠিক আছে, আমি সপ্তাহে দুই রাত তাহাজ্জুদের জন্য উঠব। দুই রাত। কারণ আমি জানি আমি এমন কিছু করছি যা করা উচিত নয়। অথবা বলুন — আমি আমার খালার প্রতি আরও যত্নশীল হব, তাঁর সাহায্য দরকার। চাচার কাছে যাব, তাঁদের সেবা করব—খিদমত করব—কারণ আমি চাই আল্লাহ আমাকে মাফ করুন।
আর এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই —এই সামান্য প্রচেষ্টাগুলোই— আল্লাহর সামনে উপস্থাপন করুন। বলুন — হে আল্লাহ, আমি জানি আমি উত্তম মানুষ নই। কিন্তু আমি আসলে অতিরিক্ত কিছু নেক আমল করছি।
আপনারা সবাই সেই বিখ্যাত হাদিসটির কথা জানেন — সেই নারীর কথা,পতিতা, যে একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল। সেই হাদিস তো জানেন তাই না? আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সেই নারীকে ক্ষমা করলেন কেন? কারণ সে অনুভব করেছিল — গভীরভাবে অনুভব করেছিল — যে তার আল্লাহর ক্ষমা প্রয়োজন। আর যে মন সত্যিকার অর্থে আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে ক্ষমা পাবেই।
আমি বলছি না, পাপটি করতে থাকো — আস্তাগফিরুল্লাহ। আমি বলছি, সেই পাপটাকে আপনার এমনসব ভালো কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা বানিয়ে নিন, যেগুলো অন্যথায় আপনি করতেন না। আপনি আসলে যতটা খারাপ, শয়তান যেন আপনাকে তার চেয়েও বেশি নিকৃষ্ট না ভাবায়। শয়তানকে এই সুযোগ দিবেন না।
হ্যাঁ, পাপে আসক্ত থাকাটা খারাপ—মুক্ত থাকাটাই আপনার জন্য উত্তম হতো। কিন্তু পাপে আসক্ত থাকার চেয়েও ভয়াবহ হলো আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া।
আপনি পাপে আসক্ত থেকেও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবেন। আপনি পারবেন। সেটা সর্বোত্তম সম্পর্ক হবে না— এ কথা আমি স্বীকার করি। কিন্তু কিছুটা সম্পর্ক তো থাকবে। আর সেই সম্পর্কটুকু আঁকড়ে ধরুন। কারণ সেটা আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার চেয়ে হাজারগুণ ভালো।
— শায়েখ ইয়াসির কাদী

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন